সংবাদ শিরোনামঃ

দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজ বন্ধের উপক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
অধ্যক্ষ ছাইফূল ছবি:
অধ্যক্ষ ছাইফূল ছবি:

অধ্যক্ষের সীমাহীন অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতায় বগুড়া দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজ বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। কলেজ পরিচালনার জন্য বর্তমানে নেই কোন পরিচালনা পর্ষদ। ফলে এলাকাবাসির মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা।  সেই সাথে অধ্যক্ষকে অপসারণ করে কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে দ্রুত এডহক কমিটি গঠন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুশীল সমাজ।

অনুসন্ধানে জানা যায় অধ্যক্ষ ছাইফুল ইসলাম সোনার বাংলাদেশ সরকারের আইন কে তোয়াক্কা না করে একই সাথে জেলার দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজ এর অধ্যক্ষ পদে ২০১৩ সাল ও কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (ইনডেক্স নং-ঘ৩০৯৭৯২৭ ) হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করে আসছেন। 

এলাকাবাসি বলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি মন্ডল, তালোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মজিবুর রহমান সহ অনেকের প্রচেষ্টায় ১৯৯৮ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে আদমদিঘী উপজেলার আব্দুর রহীমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিছু দিন পর বর্তমান অধ্যক্ষ ছাইফুল ইসলাম সোনার সহ অন্যান্যরা আব্দুর রহীমকে পদ থেকে সড়িয়ে জাহানারা কামরুজ্জান ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো. আবুল বাসার কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।  

কলেজটি সফলভাবে পরিচালনা করতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল বাসার ও সভাপতি তদানিন্তন উপজেলা নিবার্হী অফিসার সুব্রত রায় মৈত্র ২০০২ সালে ছাইফুল ইসলাম সোনারকে প্রভাষক (কাম্পিউটার), মিজানুর রহমান (সহকারি লাইব্রেরিয়ান) , অফিস সহকারি (আকরাম হোসেন), কাম্পিউটার ডেমো: এনামুল হক, অফিস সহায়ক আব্দুর রহীম ও ল্যাব: সহকারি আনোয়ারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। 

ছাইফুল ইসলাম সোনার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে ২০০৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল বাসার কে সড়িয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখন থেকে শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছাইফুল ইসলাম সোনার এর সীমাহীন দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার নতুন অধ্যায়। 

দুর্নীতির বলয় আরোও শক্ত ও মজবুত করতে তিনি পুর্নাঙ্গ অধ্যক্ষ হিসেবে ২০১৩ সালে নিয়োগ নেন তার স্ত্রী তালোড়া শাহ এহতেবাড়িয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক ও কারিগরি কলেজের প্রভাষক ফরিদা ইয়াসমিন  এর কাছ থেকে। 

অত্র কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান তাদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে রশিদ বহি ছাড়া অধ্যক্ষ নিজেই ভর্তি, সেশন ও টিউশন ফিসহ নানা অযুহাতে ১৫০০০-১৬০০০ টাকা আদায় করে আসছেন।  এছাড়া বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কলেজের উন্নয়নের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লাথ লাখ টাকা। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী জানান ২০১৯ সালে কলেজটি এমপিও ভুক্ত হলে অধ্যক্ষ ছাইফুল ইসলাম শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ভুক্ত করতে তাদের কাছ থেকে আবার হাতিয়ে নিয়েছেন ৫-৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু তিনি আদৌ কোন চেষ্টা করেনি বলে তাদের অভিযোগ। 

কলেজ থেকে অধ্যক্ষ ছাইফুল ২০-২২ বছরে প্রায় ৩-৪ কোটি টাকা লোপাট করে চম্পট দিয়েছে। এছাড়া কলেজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র , শিক্ষার্থী ভর্তির পাসওয়ার্ড ও শিক্ষক-কর্মচারির সনদপত্র নিয়ে তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কলেজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

অধ্যক্ষ ছাইফুল ইসলাম বলেন দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরী করা কোন অপরাধ নয় দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজে অধ্যক্ষের বেতন আসলে আমি কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক পদ হতে অব্যহতি নিব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সভাপতি (পদাধিকার বলে) দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজ শাহরুখ খান বলেন দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ছাইফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতায় অভিযোগ আছে। কলেজে সুষ্ঠু শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। 
 

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত